এইচ এম এরশাদ ভোলা
ভোলায় দীর্ঘ সাত মাস পর একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সোহান সরকার সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতের নাম জহুরা খাতুন (৫৭)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা এবং অভিযুক্ত আবদুল মালেকের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, আবদুল মালেক কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জের ধরে ঘটনার দিন রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আবদুল মালেক তার স্ত্রী জহুরা খাতুনের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্ত মরদেহটি বাড়ির সামনের পুকুরে ফেলে দেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে প্রচার করার চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে ভোলা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আবদুল মালেককে মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

