স্টাফ রিপোর্টার এইচ এম এরশাদ
ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি বোনদের বুঝিয়ে দেওয়ার পরও ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বোন মাসুমা বেগম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী রফিক মাতাব্বর জানান, তারা পাঁচ বোন ও দুই ভাই। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি তিনি নিজ খরচে অনেক আগেই সকল বোনের মধ্যে বুঝিয়ে দেন। অন্যান্য শরিকরা তাদের অংশ বুঝে নিলেও তার বোন মাসুমা বেগম ও তার স্বামী ফারুক মাতাব্বর বিষয়টি মেনে না নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন।
রফিক মাতাব্বরের দাবি, ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিকে ওয়ারিশি সম্পত্তি দাবি করে মামলা দায়ের করায় অন্যান্য শরিকরাও তাদের প্রাপ্য জমি ভোগদখল করতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত পক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার (২৯ মে) মাসুমা বেগম, তার স্বামী ও সন্তানরা জোরপূর্বক ওই জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় জমিতে থাকা কলাগাছ কেটে সেখানে নতুন কলার চারা রোপণ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি নিরাপদে নিজের জমি ভোগদখল এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন
রফিক মাতাব্বরের ছেলে রিয়াজ মাতাব্বর বলেন, “ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি ফুফুদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি জমি নিয়ে মামলা চললেও তার রায় হয়েছে এবং সেটি বর্তমানে তাদের দখলেই রয়েছে। কিন্তু সেই মামলার কাগজপত্র দেখিয়ে আমাদের ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমির ওপরও দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে মাসুমা বেগমের বক্তব্য জানতে চাইলে ক্যামেরার সামনে তার স্বামী ফারুক মাতাব্বর কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, “এই জমি নিয়েই মামলা হয়েছিল এবং রায়ের পর প্রায় এক বছর আগে সরকারিভাবে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই আমরা জমিটি ভোগদখল করছি। যে কলাগাছ কাটা হয়েছে, সেগুলো আমাদেরই লাগানো ছিল। পুরোনো গাছ কেটে নতুন চারা রোপণ করা হয়েছে। উল্টো রফিক মাতাব্বর লোকজন নিয়ে এসে আমাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।”
এদিকে শরিকদের মধ্যে এক বোন লাল বিবির স্বামী ফরিদ আহমেদ বলেন, “রফিক মাতাব্বর সকল শরিকের জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মামলার জটিলতার কারণে আমরা আমাদের জমি ভোগদখল করতে পারছি না। ঝামেলা সংক্রান্ত এই জমির প্রকৃত মালিক রফিক মাতাব্বর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সেখানে থাকা কলাগাছও তারই লাগানো ছিল। এখন মাসুমা বেগমের পরিবার সেই গাছ কেটে নতুন গাছ লাগিয়ে জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এইচ এম এরশাদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মারজান বেগম
প্রধান কার্যালয় উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর হাউস নাম্বার ১২ ঢাকা ১০৩০
অস্থায়ী কার্যালয় উপশহর বাংলাবাজার পুলিশ ফাঁড়ি গেট দৌলতখান ভোলা
01712728201
All rights reserved © 2025