স্টাফ রিপোর্টার
ভোলা জেলা বোরহানউদ্দিন উপজেলাধীন ০৯ নং বড় মানিকা,ওয়ার্ড নং০৪ নুর মিয়ার হাটে রাতের আঁধারে মো: শাহাবুদ্দিন মোল্লা (৩৮) প্রীতম মাহমুদ হোসেন মোল্লা গণমাধ্যম কর্মীদেরকে জানান বিগত এক বছর যাবত হালিমা খানম গার্লস স্কুলের দোকান ভাড়া নিয়া বড় মনিকা ইউনিয়ন পরিষদ হইতে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সাইরিন কসমেটিক এন্ড গিফট কর্নার নামক দোকানের সুনামের শহীত ব্যবসা করে আসিতেছি। মো:বাচ্চু (৪২) পিতা মোঃ হোসেন, মো:শাহজাহান পোনারী (৫৫) পিতা:কাদের পোনারী উত্তর কুড়ালিয়া, ৪ নং ওয়ার্ডের পাহারাদার হিসেবে কর্মরত আছেন। মো:শাজাহান পোনারী হালিমা খানম স্কুলের ক্যান্টিন ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন এবং তার বাড়ি আমার দোকানের পেছনে। মোহাম্মদ বাচ্চু মোঃ শাহজাহান আমি যখন দোকান ভাড়া নেই তখন আমাকে দোকান ভাড়া নিতে নিষেধ করেছিল কিন্তু তাদের কথা অমান্য করে আমি দোকান ভাড়া নেওয়ায় তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত থাকে এবং আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে।পরবর্তীতে গত ১৪/০৯ /২০২৫ ইং রাত ৪. ০০ টার সময় আমার দোকানের তালা ভাঙার ও ফুল অর কাটার শব্দ শুনে মো: নয়নের ঘুম ভাঙিয়ে গেলেন দাগ চিৎকার করেন ততক্ষণ ততক্ষণে বাচ্চু এবং শাজাহান একাধিক বারে আমার দোকানের সর্বমোট ১৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৪৮৮/-টাকার মালামাল অটো গাড়িতে করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা ৯৯৯ নাইনে কল দিলে থানা থেকে এসআই মোঃ জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে আসে এবং বাচ্চু এবং শাজাহানের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে,উক্ত চুরির ঘটনাটি দাপা-চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। উক্ত চুরির বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা দায়ের করিতে গেলে থানায় মামলা না নিয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ হয়ে আমার সাথে বিভিন্ন খারাপ ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমপি ৩০৬/২৫ নং মামলা দায়ের করিলে, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হইতে গত ২৪/০৯/২০২৫ ইং তারিখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফ আই আর রুজু করেন কিন্তু এখন পর্যন্ত বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ প্রশাসন অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনার কোন চেষ্টা করছে না।এসআই মোঃ জসিম উদ্দিন অভিযুক্তদের নিকট হইতে ঘুষ গ্রহণ করিয়া অভিযুক্তদের মামলা থেকে উদ্ধারের জন্য আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন। উক্ত বিষয়টি নিয়ে কোর্টে মামলা দেওয়া এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অবগত করার কারণে এসআই মোঃ জসিম উদ্দিন আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে,বলে আমি যদি এই বিষয় নিয়া কোন বাড়া-বাড়ি করি তাহলে আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেবে বলে হুমকি প্রদান করেন। উপরোক্ত বিষয়ে ওসি ও এসআইদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে একাধিক মিথ্যা মামলায় ঢুকিয়ে দিয়ে হয়রানি সহকারে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও মোটা অংকের ঘুষের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার চার্জশিট দেওয়া ও মামলার ফাইনাল দেওয়া, অপরাধীদের নাম বাদ দিয়ে নিরাপরাধীদের নাম ঢুকিয়ে তাদেরকে হয়রানি করেন।বর্তমানে উক্ত অভিযুক্তকারীগণ, এসআই মোঃ জসিম উদ্দিনের উস্কানিতে আমাকে মার-ধরসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা করিয়া হয়রানি করবে বলে হুমকি প্রদান করেন। বর্তমানে আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছ।
উপরুক্ত চুরির ঘটনাটি সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান যে,এ দোকানটি মোঃ শাহাবুদ্দিন মোল্লা ০১ বছর ধরে করছেন,এ দোকানে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ টাকার মালামাল ছিল,খুব ভালো বেচা-কেনা হতো তাই হিংসুকদের সহ্য হয়নি,যে কারণে এক রাতের মধ্যে তার দোকানটি খালি করে দিয়েছে।তবে চুরির ঘটনাটি রাতের আঁধারে ঘটায় আমরা কেউ এ বিষয়টি স্ব-চক্ষে দেখিনি তবে সকাল বেলা লোকোমুখে বলাবলি করতে শুনেছি। তবে রাতের আধারে যে বা যারাই মো:শাহাবুদ্দিন মোল্লার দোকান ঘরটি চুরি করেছে তারা অবশ্যই জুলুম করেছে কেননা মো: শাহাবুদ্দিন মোল্লার ৩০ বছর সঞ্চয়ের সবটুকু এই দোকানের ভিতর ব্যয় করেছিল।
শাহাবুদ্দিনের দোকানঘর চুরির বিষয়ে অভিযুক্ত নুর মিয়ার হাট বাজার পাহারাদার মো: বাচ্চু এবং হালিমা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের মালিক মোঃ শাজাহান এর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন,কে বা কাহারা মো: সাহাবুদ্দিন মোল্লার দোকান ঘর চুরি করেছে, সেই বিষয়ে আমরা জানি না।তবে সকালে লোকজনের ডাক চিক্কার শুনে এসে দেখি যে, মো:শাহাবুদ্দিন মোল্লার ঘর চুরি হয়েছে। তবে পাহারাদার বাচ্চু বলেন,গতকাল রাতে আমি বাজার ডিউটিতে আসার পর হঠাৎ ঘুমে চোখ লেগে আসে তাই একটু ঝিমিয়ে ছিলাম পরবর্তীতে ভোররাতে দেখি শাহাবুদ্দিন মোল্লার দোকান চুরি হয়ে গিয়েছে। তখন মোবাইল করে দোকান ঘর চুরির বিষয়ে মো: শাহাবুদ্দিন মোল্লাকে জানিয়েছি।
উপরিউক্ত অভিযোগের বিষয়ে,বোরহানউদ্দিন থানার এসআই মোঃ জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন,শাহাবুদ্দিন মোল্লার দোকান চুরির ঘটনাটি সত্য, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তাছাড়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভোলা একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা আসামীদের ধরার চেষ্টা করছি,তবে আসামীরা পলাতক রয়েছে।মো: শাহাবুদ্দিন মোল্লা এসআই জসিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে সেই বিষয়ে জানতে চাইলে,তিনি জানান,আমার উপর মো:শাহাবুদ্দিন মোল্লার অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন,তাছাড়া শাহাবুদ্দিন মোল্লা আমাদেরকে আসামি ধরতে তেমন কোন সহযোগিতা করছেন না।

